ক্রিপটোকারেন্সি ও এর সুবিধা -অসুবিধা

ক্রিপটোকারেন্সি Cryptocurrencyকি ক্রিপটোকারেন্সি ও এর সুবিধা -অসুবিধা

যেটিকে গুপ্তমুদ্রাও বলা হয় যা বাইনারি উপাত্তের একটি সংকলন যা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এর অস্তিত্ব শুধু ইন্টারনেট জগতেই বিদ্যমান। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব যার পুরো কার্যক্রম গুপ্তলিখন নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি বাজারে পরিণত হয়েছে। ক্রিপটোকারেন্সি হল এক ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি বা মুদ্রা। কোন সরকার বা রাষ্ট্র এটি উৎপাদন করে না বা যোগান দেয় না। ক্রিপ্টোকারেন্সি ভার্চুয়াল মুদ্রা যা ক্রিপ্টোগ্রাফি দ্বারা সুরক্ষিত থাকে, যা জাল করা প্রায় অসম্ভব।

ক্রিপটোকারেন্সি বা গুপ্ত মুদ্রা সূচনা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে । ডেবিড চৌম নামক মার্কিন গুপ্ত লেখক ক্রিপ্টোকারেন্সির সূচনা করেছিলেন । যাকে আমরা ক্রিপটোকারেন্সি বলে চিনি তাকে ডেভিড চৌম নাম দিয়েছিলেন ক্যাশ । ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই অদৃশ্য ক্রিপটোকারেন্সি নিয়ে কাজ করেছেন ডেভিড চৌম। ক্রিপটোকারেন্সি ও এর সুবিধা -অসুবিধা

ক্রিপ্টো মুদ্রা আবিষ্কারের প্রচেষ্টা অনেকদিন ধরে চলছে প্রযুক্তি জগতে। ক্রিপ্টোগ্রাফি থেকে যে  মুদ্রা ব্যাবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেটা গবেষকরা অনেক আগেই উপলব্ধি করেন। কিন্তু এ সম্পর্কিত সকল সমস্যার সমাধান একসাথে করতে ব্যর্থ হন তারা। অবশেষে, ২০০৮ সালে অজানা এক গবেষক (মতান্তরে জাপানের সাতোশি নাকামতো নামে এক ব্যাক্তি) নির্ভুলভাবে সেসব সমস্যার সমাধান দিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। আর তার দেয়া সেই সমাধানের নামই হল ব্লক-চেইন। ব্লকচেইন এলগোরিদম প্রক্রিয়ায় একটি কয়েন জেনারেট/উৎপাদন হতে প্রথম দিকে সময় খুব কম সময় (৫ মিনিট) লাগলেও সময়ের সাথে সাথে এর জটিলতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে, একটি কয়েন ১৫ দিনেরও বেশি সময় নিয়ে উৎপন্ন হয়। আর এই প্রক্রিয়ার জটিলতার  উপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হয় ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বা রেট। Bitcoin, Litecoin, Binance Coin, Dogecoin এগুলো হল বর্তমানে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সর্বাধিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি। ক্রিপটোকারেন্সি ও এর সুবিধা -অসুবিধা

ক্রিপটোকারেন্সি ও এর সুবিধা -অসুবিধা

ক্রিপ্টোমুদ্রার বা ক্রিপটোকারেন্সির সুবিধা  কী?

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে, ঠিক তেমনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পৃথিবীর মুদ্রা ব্যবস্থার অনেক বিবর্তন ঘটেছে। স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রা থেকে সেটা কাগুজে মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বাজারে নকল মুদ্রার প্রবেশ ঠেকাতে উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এর মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থা গ্রাহকের লেনদেন সেবাকে আরও দ্রুততর করা হয়েছে। এগুলোকে ‘ডিজিটাল কারেন্সি’ বলা যেতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময়, এগুলো হ্যাক হয়, অথবা টাকা চুরি হয় অনলাইন স্ক্যামারদের মাধ্যমে। সবচেয়ে অভাবনীয় অগ্রগতি এনেছে যেই মুদ্রা সেটি হল ক্রিপ্টো মুদ্রা। ক্রিপ ক্রিপটোকারেন্সি ও এর সুবিধা -অসুবিধা

 এর কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান নেই। পৃথিবীজুড়ে এর ব্যাবহারকারী সবাই একধরনের নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই মুদ্রার প্রচলন করছে। কেউ নীতিনির্ধারক নয়, সবাই সমান, নেটওয়ার্কের একটি অংশ বা নোড মাত্র। ক্রেতা থেকে বিক্রেতার কাছে সরাসরি, কারও মধ্যস্থতা ছাড়াই, নিরাপদ ও নিশ্চিতভাবে এই মুদ্রা আদান প্রদান করা যায়। এই মুদ্রাব্যবস্থার কোনো কেন্দ্রীয় রূপ নেই, এখানে সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। 

 বিভিন্ন ক্রিপটোকারেন্সি দিয়ে যে কেউ লেনদেন করতে পারবে, এই কারেন্সি দিয়ে কেনাকাটাও করা যাবে যে কোন দেশে। কোনো ব্যাংকের ব্যাপার নেই, কোনো মুদ্রা বিনিময় হারের ব্যাপার নেই। মধ্যবর্তী কোনো সংস্থা নেই। এটি শুধু পারমিশন প্রয়োজন যেখানে লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

  দ্রুত গতিতে এই মুদ্রা এক দেশ থেকে আরেক দেশে ট্রান্সফার করা সম্ভব। কেনাবেচা হয়েছে অনেক সহজ। বিটকয়েনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় লাগছে এখন। কিন্তু অন্য কিছু ক্রিপ্টো মুদ্রা আরও কম সময়ে ট্রান্সফার করা যায়। বর্তমান মুদ্রা স্থানান্তর ব্যবস্থায় ইন্টারন্যাশনাল মানি ট্রান্সফার -এ কয়েক দিন লেগে যায়। 

 এই মুদ্রা প্রেরকের কাছ থেকে গ্রাহকের কাছে পাঠাতে সুনির্দিষ্ট  ফি লাগে। এটি পাঠানো অর্থের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়। এক বিটকয়েন আর এক লাখ বিটকয়েন পাঠাতে একই ফি লাগে । বর্তমান মানি ট্রান্সফারে যেটি কখনও হয়না।

  ক্রিপ্টো মুদ্রার লেনদেন এর ক্ষেত্রে কোন নকলের আশ্রয় বা জাল করা যায় না। একবার ট্রান্সফার হয়ে গেলে কোনোভাবে ফিরিয়ে নিতে বা পরিবর্তন করা যায় না। এই লেনদেন অপরিবর্তনীয়। ফলে জালিয়াতির সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। 

৬।বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্কের টেসলা ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন কেনার পরপরই এটি দ্রুততম সময়ে একেকটি বিটকয়েনের মূল্য ৫০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।

ক্রিপটোকারেন্সি ব্যবসায় বিনিয়োগ বা এটি দিয়ে লেনদেন করতে চাইলে এর সব বিষয়গুলো ভালভাবে জানা জরুরী। আমরা পর্যায়ক্রমে সব বিষয়গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করবো।খুঁটিনাটি বিষয় না জেনে বিনিয়োগ করলে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে কারন এই ক্রিপটোকারেন্সিকে ঘিরে হাজার হাজার স্ক্যাম হচ্ছে, এগুলো হচ্ছে ফেইক কারেন্সি বা অনিয়মের কারনে।

ক্রিপ্টোমুদ্রার বা ক্রিপটোকারেন্সির অসুবিধা  কীঃ

ক্রিপ্টোকারেন্সির কিছু অসুবিধা বা সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক

  • ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর কারো নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। ক্রিপ্টোকারেন্সি কোন সরকার বা রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না । ফলে ক্রিপটোকারেন্সির মূল্য প্রবলভাবে উঠা নামা করে
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি হল একটি ডিজিটাল মুদ্রা, তাই এটি হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
  • ক্রিপ্টোকারেন্সির কোন ফিজিক্যালি অস্তিত্ব নেই
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি একবার স্থানান্তরিত হয়ে গেলে তা আর পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব
  • ক্রিপটোকারেন্সির ব্যবহার সব দেশে বৈধ নয়
  • ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার সীমিত
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ কার্যকলাপ চালানোর আদর্শ পন্থা হতে পারে

আমরা কিছু জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম জেনে নিইঃ

 Bitcoin  Litecoin  Name Coin
 Ethereum  Monero  Stellar
 Tether  Cosmos  Doge Coin
 TRON  Peercoin  Bitcoin Cash
 Ripple  Bit Torrent  Binance Coin

Cryptocurrency কিভাবে কাজ করে এ বিষয় জানতে ব্লকচেইন টেকনোলজি সম্পর্কে জানতে হবে।

এর পরের বিষয় ব্লকচেইন সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

Add comment

Security code
Refresh

About directory

Market Bangladesh is a dynamic online directory. It helps to increase and expand business. One can create firms or shop profiles and add images of products & services with the help of our representatives and also create Offers and Events. It will be effective and efficient for all classes of people and businesses. Continue

Amazon

User Area



Not registered yet?

Join the system.

Create an account